২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকার সুলতানবাড়ি এলাকায় একটি সরকারি অফিসে সেবাগ্রহীতা মিসেস রুবাইয়া সুলতান ঘুষের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করার পর হুমকির মুখে পড়েন। ৪৫ বছর বয়সী মিসেস সুলতান, যিনি ২০১৯ সাল থেকে একই অফিসে সেবা গ্রহণ করছেন, ৫০০০ টাকার ঘুষ চেয়ে একটি নোটিশ পেয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর অফিসের কর্মচারী হুমকি দিয়ে বলেন, “আপনার নোটিশ আসুক, তারপর দেখুন, দ্যাখপোনে।” ঘটনাটি সাইটে উপস্থিত দুইজন সাক্ষীর মাধ্যমে ভিডিওতে ধরা পড়ে এবং তা সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
এই ঘটনার পেছনে রয়েছে সরকারি সেবায় দীর্ঘদিনের দুর্নীতির প্রবণতা। সুলতানবাড়ি এলাকার বিভিন্ন সরকারি বিভাগে ঘুষের অনুরোধের অভিযোগ বারবার উঠে এসেছে। ২০১৭ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ১,২০০ টিরও বেশি ঘুষের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৮০% ক্ষেত্রে সেবাগ্রহীতা হুমকি বা শারীরিক আক্রমণের শিকার হয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে মিসেস সুলতানের ঘটনা আবারও জনগণের মধ্যে উদ্বেগের সঞ্চার করেছে।
মিসেস সুলতান পুলিশকে ঘটনাটি জানিয়ে বলেন, “আমি শুধু সঠিক সেবা চেয়েছি, কিন্তু আমাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমি ভীত হয়ে গেছি।” পুলিশ কর্মকর্তা জানান, “ঘটনাটি দ্রুত তদন্ত করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ আনা হবে।” সামাজিক মিডিয়ায় এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর অনলাইন ফোরামে ‘ঘুষবিরোধী’ আন্দোলন শুরু হয় এবং জনগণ পুলিশের কাছে দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান জানায়।
পুলিশের মতে, ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের অধীনে রাখা হয়েছে এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে আদালতে হাজির করা হবে। এছাড়া, সুলতানবাড়ি এলাকার সরকারি বিভাগে ঘুষবিরোধী সচেতনতা কর্মসূচি চালু করা হবে এবং সেবাগ্রহীতাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নতুন নীতি প্রণয়ন করা হবে। কর্তৃপক্ষের প্রতিশ্রুতি, “ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না” এবং “ঘুষের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।