গত সপ্তাহের সন্ধ্যায় ঢাকা শহরের এক ব্যস্ত ফুটপাতে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি হঠাৎ করে অপরিচিতের ওপর হিংসাত্মক মারধর চালিয়ে ভিডিও রেকর্ড করা হয়। রেকর্ডিংটি সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে লক্ষ লক্ষ দর্শকের নজরে আসে। ভিডিওতে দেখা যায়, ভিকটিমকে একদল লোক ঘিরে ধরেছে, আর তাদের সঙ্গে উপস্থিত দুইজন পুলিশ সদস্য কোনো হস্তক্ষেপ না করে কেবল দাঁড়িয়ে ঘটনাটিকে পর্যবেক্ষণ করছে। ভিকটিমের মুখে রক্তের দাগ এবং গায়ে চিহ্ন স্পষ্টভাবে দেখা যায়, তবে পুলিশ সদস্যরা মাইক্রোফোনে কোনো নির্দেশনা না দিয়ে শুধু নীরবভাবে দাঁড়িয়ে আছে। এই দৃশ্যটি নাগরিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষের সঞ্চার ঘটিয়ে দেয় এবং পুলিশের দায়িত্ব পালনে ত্রুটির প্রশ্ন উত্থাপন করে।
ঢাকার জনবহুল ফুটপাতে পূর্বে অনুরূপ ঘটনা ঘটার ইতিহাস রয়েছে। গত বছরই একই ধরনের একটি মারধরের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল, তখনও পুলিশকে ঘটনাস্থলে হস্তক্ষেপ না করার জন্য সমালোচিত করা হয়েছিল। এছাড়া, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পুলিশ বাহিনীর অপ্রতুল প্রশিক্ষণ ও জনসাধারণের সঙ্গে যোগাযোগের ঘাটতি নিয়ে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। ফুটপাতের মতো উন্মুক্ত জনস্থানগুলোতে অপরাধের ঝুঁকি বেশি, ফলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তৎক্ষণাৎ হস্তক্ষেপ এবং সঠিক প্রোটোকল অনুসরণ করা অপরিহার্য। তবে বাস্তবে, জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় তদারকি ও ত্বরিত পদক্ষেপের অভাব স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
ঘটনা ঘটার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা তৎক্ষণাৎ ভিডিওটি রেকর্ড করে সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে, যা দ্রুতই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। এক সাক্ষী বলেন, “পুলিশের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, যেন আমরা আমাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হলেও তাদের দায়িত্ব অগ্রাহ্য করা হয়েছে।” অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট দুইজন পুলিশ সদস্যের সঙ্গে করা সাক্ষাৎকারে তারা জানান, “আমরা ঘটনাটির প্রকৃতি সম্পূর্ণভাবে বুঝতে পারিনি এবং হস্তক্ষেপের আগে উচ্চতর কর্মকর্তার নির্দেশের অপেক্ষা করছিলাম।” ভিকটিমের পরিবারও মিডিয়ার মাধ্যমে তাদের কষ্ট প্রকাশ করে এবং দ্রুত ন্যায়বিচার চায়। সামাজিক মাধ্যমে নাগরিকদের মন্তব্যে “পুলিশের নীরবতা আর সহিংসতা সহ্য করা যাবে না” এবং “দায়িত্বশীল পুলিশিং নিশ্চিত করা দরকার” মত দাবি শীর্ষে উঠে এসেছে।
ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট পুলিশ স্টেশন থেকে অভ্যন্তরীণ তদন্তের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এবং ভিডিওতে উপস্থিত দুইজন কর্মকর্তা উপর সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ঢাকা শহরের মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রধানও একটি প্রেস কনফারেন্সে বলেন, “এই ধরনের ঘটনা আমাদের সুনাম ক্ষুণ্ন করে এবং আমরা দ্রুত তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করব।” তদুপরি, পুলিশ বিভাগে জনসাধারণের নিরাপত্তা বাড়াতে নতুন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেখানে জনবহুল স্থানে হস্তক্ষেপের প্রোটোকল এবং মানবাধিকার সংক্রান্ত নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সরকারও এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তদারকি বাড়াতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করার কথা জানিয়েছে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে নীতি নির্ধারণে সহায়তা করবে।