মাল্টা ও মরিচের চা সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা ও স্বাদ অনুসন্ধানের নতুন প্রবণতা হিসেবে দেশের বিভিন্ন কোণায় জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এই চা কেবল তীব্র উষ্ণতা প্রদানই করে না, বরং রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে এবং শীতল বাতাসে শারীরিক উষ্ণতা বজায় রাখতে সহায়ক বলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। বিশেষ করে শীতকালে কর্মস্থল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে এর চাহিদা বেড়ে গেছে, যা স্থানীয় বাজারে বিক্রেতাদের বিক্রয় বৃদ্ধি করেছে এবং স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতনতা জাগ্রত করেছে।
মাল্টা ও মরিচের চায়ের উৎপত্তি মূলত দক্ষিণ এশিয়ার ঐতিহ্যবাহী ঔষধি চা সংস্কৃতি থেকে উদ্ভূত, যেখানে মাল্টা (মাল্টা গাছের পাতা) ও মরিচ (ক্যাপসিকাম) দুটিই প্রাচীনকাল থেকে শারীরিক শক্তি ও রোগ প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়। বাংলার গ্রামীণ এলাকায় এই উপাদানগুলোকে একত্রে ব্যবহার করার প্রথা প্রাচীন কৃষক পরিবারে শুরু হয়, যা পরবর্তীতে শহুরে রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফে মেনুতে স্থান পায়। ঐতিহাসিক রেকর্ডে দেখা যায়, ১৯৫০ দশকে এই চা প্রথমবারের মতো শহরের চায়ের দোকানে পরিবেশন করা হয় এবং ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
প্রস্তুতিতে প্রথমে এক চা চামচ মাল্টা পাতা ও আধা চা চামচ গুঁড়া মরিচকে একসাথে মিশিয়ে নিন। এরপর দুগুণ পরিমাণ পানি ফুটিয়ে তাতে মিশ্রণটি যোগ করুন এবং মাঝারি আঁচে পাঁচ মিনিট সেদ্ধ করুন। সেদ্ধ হওয়ার পর চিনি বা মধু যোগ করে স্বাদমতো মিষ্টি করুন এবং গরম গরম পরিবেশন করুন। ব্যবহারকারীরা সাধারণত এই চা সকালে বা সন্ধ্যাবেলায় পান করেন, যা শারীরিক ক্লান্তি দূর করে এবং মনকে সতেজ করে। বেশ কয়েকটি স্বাস্থ্য সংস্থা এই চায়ের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক এবং হালকা সর্দি-কাশি উপশমে কার্যকর বলে গবেষণার ফল প্রকাশ করেছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই চায়ের উপকারিতা স্বীকার করে সম্প্রতি একটি সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালু করেছে, যেখানে রেসিপি ও সঠিক পরিমাণের নির্দেশনা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি, স্থানীয় কৃষক সমিতি মাল্টা ও মরিচের চাষে উৎসাহিত করে উৎপাদন বৃদ্ধি ও গুণগত মান উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করছে। ভবিষ্যতে এই চায়ের বাণিজ্যিক উৎপাদন ও রপ্তানির সম্ভাবনা বিবেচনা করে সরকারিকভাবে এক্সপোর্ট প্যাকেজ তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।