জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আজ এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানায় যে, আইনশাস্ত্র স্নাতক (এলএলবি) পরীক্ষার নিবন্ধন ফি পূর্বের ছয়শত টাকার পরিবর্তে চারশত টাকায় কমানো হবে এবং ফরম পূরণ ও ফি জমার শেষ তারিখ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন ফি কাঠামো এবং সংশোধিত সময়সীমা ২৮ আগস্ট থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কার্যকর হবে। এই পরিবর্তনটি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে পড়া লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর জন্য আর্থিক চাপ হ্রাসের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। তৎক্ষণাৎ এই ঘোষণার ফলে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা দেখা যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সেবা বিভাগও এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে, দ্রুত অনলাইন পোর্টাল চালু করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যাতে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ হয়।
এলএলবি পরীক্ষার পূর্ব ফি ছয়শত টাকা নির্ধারিত ছিল, যা বহু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের জন্য উল্লেখযোগ্য আর্থিক বোঝা সৃষ্টি করত। গত কয়েক বছরে শিক্ষার্থীর আর্থিক অবস্থা নিয়ে বিভিন্ন সমিতি ও ছাত্র সংগঠন থেকে ফি হ্রাসের দাবি তীব্রভাবে উঠে আসছিল। এছাড়া, উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক আর্থিক সহায়তা নীতি ও বৃত্তি পরিকল্পনা শিক্ষার্থীর মোট ব্যয় কমাতে সহায়ক প্রমাণিত হয়েছে। এসব পটভূমি বিবেচনা করে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ফি হ্রাসের পাশাপাশি নিবন্ধন সময়সূচি পরিবর্তন করে, শিক্ষার্থীর আবেদন প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত সময় প্রদান করার সিদ্ধান্ত নেয়।
বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষার নিয়ন্ত্রণ শাখার সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. শামসুল আলম ফি হ্রাসের পেছনে শিক্ষার্থীর আর্থিক স্বস্তি ও শিক্ষার প্রবেশযোগ্যতা বৃদ্ধির লক্ষ্যকে উল্লেখ করে, “এই পদক্ষেপটি শিক্ষার্থীর শিক্ষার গুণগত মান বজায় রেখে আর্থিক বাধা কমাতে সহায়ক হবে” বলে মন্তব্য করেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি রাহিম উদ্দিন এই পরিবর্তনকে “দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে একটি ইতিবাচক সাড়া” বলে স্বাগত জানিয়ে, ভবিষ্যতে আরও সুলভ ফি কাঠামো প্রত্যাশা প্রকাশ করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-প্রধানও ফি হ্রাসকে জাতীয় শিক্ষার সমতা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে, সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
ফি হ্রাস ও সময়সূচি পুনর্নির্ধারণের পর, বিশ্ববিদ্যালয় দ্রুত অনলাইন নিবন্ধন পোর্টাল চালু করে, যাতে শিক্ষার্থীরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে ফরম পূরণ ও ফি জমা দিতে পারে। এছাড়া, নিবন্ধন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে রিয়েল‑টাইম ট্র্যাকিং সিস্টেম স্থাপন করা হবে এবং কোনো প্রযুক্তিগত সমস্যার ক্ষেত্রে হটলাইন চালু থাকবে। ভবিষ্যতে ফি কাঠামো পুনর্মূল্যায়ন ও শিক্ষার্থীর আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধির জন্য একটি সমন্বিত নীতি প্রণয়ন করা হবে, যা শিক্ষার গুণগত মান ও প্রবেশযোগ্যতা দুটোই নিশ্চিত করবে। এই পদক্ষেপগুলো শিক্ষার্থীর মনোবল বৃদ্ধি এবং দেশের আইনশাস্ত্র শিক্ষার মানোন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।