খুলনা শহরে আজ বিকাশের নতুন সামাজিক দায়িত্বপূর্ণ উদ্যোগ ‘বিকাশ বন’ উদ্বোধন করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে অর্জিত পয়েন্টের বিপরীতে বাস্তব গাছ রোপণ করা, যাতে ভার্চুয়াল গাছের সঙ্গে বাস্তব পরিবেশের সমন্বয় ঘটানো যায়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসন, বিকাশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং পরিবেশ সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এই উদ্যোগটি দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির দ্রুত বিস্তার এবং পরিবেশ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার মধ্যে একটি সেতু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিকাশ বন প্রকল্পের পটভূমি হল দেশের মোবাইল আর্থিক সেবার ব্যাপক প্রসার এবং একই সঙ্গে গাছের সংখ্যা হ্রাসের উদ্বেগ। গত কয়েক বছরে বিকাশের ব্যবহারকারী সংখ্যা লক্ষ লক্ষের ওপর পৌঁছেছে, ফলে লেনদেনের পরিমাণও বিশাল মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। এই লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত পয়েন্ট সিস্টেমকে পরিবেশ সংরক্ষণের একটি উপায়ে রূপান্তরিত করার ধারণা প্রথমে বিকাশের গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগে উদ্ভূত হয়। এরপর পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে ভার্চুয়াল গাছের মানচিত্র তৈরি করা হয় এবং প্রতিটি পয়েন্টের বিপরীতে বাস্তব গাছ রোপণের পরিকল্পনা গৃহীত হয়। এই পদ্ধতি ডিজিটাল অর্থনীতিকে সরাসরি পরিবেশগত সুবিধার সঙ্গে যুক্ত করার একটি নতুন মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিকাশের সিইও শ্রীমতী রেহানা বেগম উল্লেখ করেন, “ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে সঞ্চিত পয়েন্টকে বাস্তব গাছ রোপণে রূপান্তর করা আমাদের সামাজিক দায়িত্বের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা পরিবেশ সংরক্ষণে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চাই।” খুলনা জেলা প্রশাসক মি. আবদুল করিমও বলেন, “বিকাশ বন প্রকল্প আমাদের অঞ্চলের গাছের ঘনত্ব বাড়াবে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি করবে।” স্থানীয় কৃষক সমিতির সভাপতি শ্রী মোহাম্মদ আলী জানান, “গাছ রোপণ কাজের মাধ্যমে কৃষক সম্প্রদায়ের জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, যা অর্থনৈতিক দিক থেকেও উপকারী।” সাধারণ জনগণের মধ্যে এই উদ্যোগের প্রতি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে; অনেক গ্রাহক তাদের লেনদেনের পয়েন্টকে গাছ রোপণে ব্যবহার করতে উচ্ছ্বসিত।
প্রকল্পের বাস্তবায়ন পর্যায়ে বিকাশ ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে একটি তত্ত্বাবধান কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি গাছ রোপণের স্থান নির্বাচন, গাছের প্রজাতি নির্ধারণ এবং রোপণ পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করবে। প্রথম পর্যায়ে খুলনার পাঁচটি পাড়া থেকে ১,০০০টি গাছ রোপণ করা হবে, এবং প্রতি মাসে রোপিত গাছের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। এছাড়া, বিকাশের মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে রোপিত গাছের অবস্থান ও বৃদ্ধির তথ্য রিয়েল-টাইমে ব্যবহারকারীদের জানানো হবে, যাতে স্বচ্ছতা বজায় থাকে। ভবিষ্যতে এই মডেলকে দেশের অন্যান্য জেলা ও শহরে প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে, এবং সরকারও এই উদ্যোগকে জাতীয় পরিবেশ নীতি সমর্থনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।