গত সপ্তাহের শনি-রবিবার, ঢাকা শহরের উত্তরের গুলশান এলাকায় বসবাসরত এক প্রবাসী নাগরিকের বাসভবনে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনাটি স্থানীয় ফেসবুক গ্রুপে ‘প্রত্যেকটা মাদক ব্যবসায়ীর বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হোক’ শিরোনামের পোস্টের পরই ঘটেছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। রাত দশটার দিকে প্রতিবেশীরা অগ্নিকণার ধোঁয়া লক্ষ্য করে অবিলম্বে ৯৯৯ নম্বরে কল করে, এবং দ্রুত আগুন নেভাতে স্থানীয় দমকল দল উপস্থিত হয়। দমকলকর্মীরা প্রায় এক ঘন্টার মধ্যে অগ্নি নিভিয়ে নেয়; তবে আগুনের তীব্রতা বাড়ার আগে বাসভবনের এক কোণ থেকে একটি সচল লাইটার উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনাটি সামাজিকভাবে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশের মাদক বিরোধী নীতি ও অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা উস্কে দেয়। অগ্নিকাণ্ডের ফলে কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও, সম্পত্তি ক্ষতি উল্লেখযোগ্য হয়েছে এবং বাসিন্দা পরিবার অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাদক ব্যবসা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তা নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তবু মাদকদ্রব্যের সরবরাহ চেইন ও বিক্রয় নেটওয়ার্ক গোপনীয়তার সঙ্গে কাজ করে, ফলে জনসাধারণের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্মে মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে তীব্র রাগ প্রকাশের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে; বিশেষ করে ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে ‘মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ’ শিরোনামের পোস্টগুলো প্রায়ই হিংসাত্মক ভাষা ব্যবহার করে। গত বছরই ঢাকার এক বাণিজ্যিক এলাকায় মাদকদ্রব্যের গুদাম ধ্বংসের প্রচেষ্টায় একাধিক অগ্নিকাণ্ড ঘটেছিল, যার ফলে কয়েকজন অপরাধী গ্রেফতার হয় এবং কিছু সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই প্রেক্ষাপটে, অনলাইন পোস্টের মাধ্যমে হিংসাত্মক আহ্বানকে বাস্তবায়িত করার ঝুঁকি বাড়ছে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে সতর্কতা অবলম্বন করতে বাধ্য করছে।
অগ্নিকাণ্ডের পর স্থানীয় পুলিশ প্রধান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জানিয়েছেন, পোস্টের বিষয়বস্তু এবং অগ্নিকাণ্ডের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা কঠিন, তবে হিংসাত্মক আহ্বানকে অবহেলা করা যায় না। দমকল বিভাগের প্রধানও উল্লেখ করেছেন, লাইটারটি সচল অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা অগ্নিকাণ্ডের সূচনা পয়েন্ট হতে পারে। বাড়ির মালিক, যিনি বর্তমানে যুক্তরাজ্যে কর্মরত, ফোনে জানান, তিনি পোস্টের বিষয়বস্তু সম্পর্কে অজ্ঞ ছিলেন এবং কোনো হুমকি পেয়েছিলেন না; তবে তার পরিবার অস্থায়ীভাবে গৃহহীন হয়ে পড়েছে। প্রতিবেশীরা ঘটনাটিকে ‘সামাজিক মিডিয়ার অপ্রত্যাশিত বিপদ’ বলে সমালোচনা করে এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে হিংসাত্মক বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণের দাবি জানায়। নাগরিক সমাজের কিছু সংগঠনও এই ঘটনার পর মাদকবিরোধী আন্দোলনকে শান্তিপূর্ণ পথে চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
প্রতিবাদী পোস্টের তদন্তে পুলিশ বিশেষ দল গঠন করে, সংশ্লিষ্ট ফেসবুক গ্রুপের আইডি ও পোস্টের রেকর্ড সংগ্রহ করে এবং পোস্টের লেখককে অনুসন্ধান করার নির্দেশ দেয়। দমকল বিভাগ অগ্নি নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ বাড়াতে এবং বাসিন্দাদের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে বিশেষ কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে। এছাড়া, তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় অনলাইন হিংসাত্মক বিষয়বস্তু সনাক্তকরণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক সিস্টেমের ব্যবহার দ্রুততর করার ঘোষণা দিয়েছে। সরকার মাদকবিরোধী আইনকে কঠোর করে এবং হিংসাত্মক অনলাইন আহ্বানকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে শাস্তি বাড়ানোর পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে ভবিষ্যতে অনলাইন হিংসা ও বাস্তব হিংসার সংযোগ রোধ করা এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা লক্ষ্য করা হচ্ছে।