সরকারের সর্বশেষ ঘোষণায় জানানো হয়েছে যে ইস্টার্ন রিফাইনারির জন্য ১৪ লাখ টন ক্রুড অয়েল ক্রয় করা হবে। এই সিদ্ধান্তটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে এবং তেল শিল্পে সরবরাহের ঘাটতি দূর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ক্রয় চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গে রিফাইনারির উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা দেশের তেল-গ্যাস সংস্থার আর্থিক স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তদুপরি, এই ক্রয় পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক তেল বাজারের অস্থিরতা মোকাবেলায় দেশের কৌশলগত রিজার্ভ শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যও বহন করে।
ইস্টার্ন রিফাইনারি, যা পূর্বাঞ্চলের প্রধান তেল পরিশোধন কেন্দ্র, গত কয়েক বছরে কাঁচামাল সরবরাহে ধারাবাহিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। পূর্বে রিফাইনারি মূলত আমদানি করা ক্রুড অয়েল ব্যবহার করত, তবে বৈশ্বিক তেল মূল্যের ওঠানামা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের অস্থিতিশীলতা কারণে উৎপাদন হ্রাস পায়। এই প্রেক্ষাপটে সরকার ২০২২ সালে রিফাইনারির আধুনিকীকরণ প্রকল্প চালু করে, যাতে দেশীয় তেল ক্ষেত্র থেকে কাঁচামাল ব্যবহার বৃদ্ধি করা যায়। তবে দেশীয় উৎপাদন এখনও পর্যাপ্ত না হওয়ায় অতিরিক্ত ক্রুড অয়েল আমদানি করা অপরিহার্য হয়ে দাঁড়ায়, ফলে ১৪ লাখ টনের এই বৃহৎ ক্রয় পরিকল্পনা পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকে উদ্ভূত।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি বিভাগে কাজ করা মন্ত্রী শ্রীমতি রেহানা বেগম এই ক্রয়কে “জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একটি কৌশলগত পদক্ষেপ” বলে উল্লেখ করেছেন। রিফাইনারি পরিচালনা পরিষদের প্রধান মি. আবদুল করিম বলেন, “এই ক্রয় আমাদের উৎপাদন লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করবে এবং তেল দামের অস্থিরতা থেকে রক্ষা পেতে সাহায্য করবে।” শিল্প বিশ্লেষকরাও এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, “বৃহৎ পরিমাণে ক্রুড অয়েল সংগ্রহ করে রিফাইনারি তার উৎপাদন শৃঙ্খল স্থিতিশীল করতে পারবে, যা শেষ ব্যবহারকারীকে সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহে সহায়তা করবে।” সাধারণ জনগণও জ্বালানি মূল্যের স্থিতিশীলতা ও সরবরাহের নিশ্চয়তা নিয়ে আশাবাদী।
সরকার ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহকারীদের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এবং ক্রয় প্রক্রিয়ার জন্য স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার জন্য একটি বিশেষ তদারকি কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি ক্রয় চুক্তির শর্তাবলী, ডেলিভারি সময়সূচি এবং গুণগত মানের পর্যবেক্ষণ করবে। তদুপরি, রিফাইনারি আধুনিকীকরণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে নতুন সংরক্ষণ ট্যাঙ্ক ও পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ চলছে, যা ক্রয়কৃত ক্রুড অয়েলকে দ্রুত এবং নিরাপদে প্রক্রিয়াকরণে সহায়তা করবে। ভবিষ্যতে সরকার দেশীয় তেল উৎপাদন বাড়াতে এবং রিফাইনারির স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে অতিরিক্ত বিনিয়োগের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করবে।