আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সাভার রেজিস্ট্রার কার্যালয়কে দেশের অন্যতম ‘প্রশ্নবোধক’ বিভাগ হিসেবে চিহ্নিত করে বলেছেন, এই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে জমি ও সম্পত্তি সংক্রান্ত নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির রীতি চলতে থাকায় জনগণের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার রাজধানীর আইন মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। আইনমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সাভার রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে জমি দখল, মিথ্যা দলিল তৈরি এবং সরকারি সম্পত্তি অবৈধভাবে হস্তান্তরের মতো ঘটনাগুলো দেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করে। তিনি জানান, সরকার এই ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছতা আনতে এবং দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে, যাতে নাগরিকরা নিরাপদে তাদের আইনি কাজ সম্পন্ন করতে পারেন।
ঘটনার নেপথ্যে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ শাসনামলের প্রতি ইঙ্গিত করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের বিচারব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। আমরা সেইটা মেরামতের কাজ করছি।’ তিনি দাবি করেন, আগের শাসনামলে জমি ও সম্পত্তি সংক্রান্ত আইন প্রয়োগে বিকৃতি ঘটেছে এবং সাভার রেজিস্ট্রার কার্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন রেজিস্ট্রার অফিসে দুর্নীতিবাজরা প্রভাব বিস্তার করে জনগণের অধিকার হরণ করেছে। আইনমন্ত্রী আরও বলেন, এই প্রতিষ্ঠানগুলোয় দীর্ঘদিন ধরে চলমান অনিয়মের কারণে দেশের অর্থনৈতিক চিত্রও প্রভাবিত হয়েছে, যা এখন সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচির অংশ।
সংশ্লিষ্টরা এবং আইনজীবী মহল এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন, তবে তারা দাবি করেছেন যে শুধুমাত্র বক্তব্য নয়, বাস্তবায়নে কঠোরতা দেখাতে হবে। স্থানীয় আইনজীবীরা জানিয়েছেন, সাভার এলাকায় জমি সংক্রান্ত মামলায় দীর্ঘদিন ধরে বিলম্ব ও অনিয়মের অভিযোগ আসছিল। জনসাধারণের মধ্যে আশা জেগেছে যে, নতুন পদক্ষেপের ফলে দলিল নিবন্ধন প্রক্রিয়া দ্রুত ও স্বচ্ছ হবে। তবে কিছু পর্যবেক্ষক মনে করছেন, এই ধরনের প্রতিষ্ঠানে গভীরভাবে বসে থাকা দুর্নীতির জাল ভেঙে ফেলা সহজ নয় এবং এর জন্য দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা প্রয়োজন।
কর্তৃপক্ষের বর্তমান পদক্ষেপ হিসেবে আইন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাভার রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে, যা আগের শাসনামলে ঘটে যাওয়া সব ধরনের অনিয়মের তদন্ত করবে। ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপটে সরকার ডিজিটাল নিবন্ধন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং মানবিক ত্রুটি কমানোর উদ্যোগ নেবে। আইনমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যেসব কর্মকর্তা দুর্নীতিতে জড়িত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তারা ছাড়াই একটি নবীন ও দক্ষ কর্মী দল গঠন করা হবে। এতে করে দেশের বিচারব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি জমি সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।