আজ আন্তর্জাতিক ফুটবল জগতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আজারবাইজানের সাবাহ এফসি দলকে বার্সেলোনা, আর্সেনাল ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের প্রতিপক্ষ হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগে স্থান পেতে দেখা গেছে। সাবাহের প্রধান প্রশিক্ষক ভালদাস ডামব্রকাসের নেতৃত্বে দলটি অল্প সময়ের মধ্যে কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগের মঞ্চে পৌঁছেছে। এই অর্জনটি শুধুমাত্র ক্লাবের জন্য নয়, পুরো আজারবাইজান ফুটবলের জন্যই গৌরবের মুহূর্ত, কারণ এটি দেশের প্রথম দল হিসেবে ইউরোপীয় শীর্ষ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সূচনা করে।
সাবাহ এফসি মাত্র নয় বছর আগে, ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ক্লাবটি আধুনিক প্রশিক্ষণ পদ্ধতি, বিদেশি খেলোয়াড়ের সংযোজন এবং তরুণ প্রতিভার বিকাশে জোর দিয়েছে। দেশীয় লিগে ধারাবাহিকভাবে শীর্ষে উঠে, ২০২১ সালে প্রথমবারের মতো ইউরোপীয় কোয়ালিফাইং রাউন্ডে প্রবেশ করে এবং পরবর্তী মৌসুমে ধারাবাহিক জয়লাভের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্যায়ে স্থান নিশ্চিত করে। ক্লাবের দ্রুত অগ্রগতি দেশের ফুটবল অবকাঠামো, বিনিয়োগ এবং প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার উন্নতির সঙ্গে সমন্বিত।
প্রশিক্ষক ভালদাস ডামব্রকাস বলেন, “আমাদের দল কঠোর পরিশ্রম ও শৃঙ্খলার ফলস্বরূপ এই মঞ্চে পৌঁছেছে; এখন লক্ষ্য হল প্রতিপক্ষের সঙ্গে সমানভাবে প্রতিযোগিতা করা।” সাবাহের ক্যাপ্টেনও দলের আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে, “আমরা বড় ক্লাবের মুখোমুখি হলেও আমাদের কৌশল ও মনোবল অপরিবর্তিত থাকবে।” আজারবাইজান ফুটবল সমিতির সভাপতি উল্লেখ করেন, “এই সাফল্য দেশের ফুটবলের আন্তর্জাতিক মানোন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।” ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা ও গর্বের সুর শোনা যায়, সামাজিক মাধ্যমে দলকে সমর্থন জানিয়ে অসংখ্য পোস্ট প্রকাশিত হয়েছে।
অধিকর্তারা এখন ক্লাবের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা, প্রশিক্ষণ সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। আজারবাইজান ফুটবল সমিতি ইউরোপীয় ফুটবল সমিতির সঙ্গে সমন্বয় করে ক্লাবের নিরাপত্তা, ভ্রমণ ও লজিস্টিক ব্যবস্থার তদারকি করবে। ভবিষ্যতে সাবাহ এফসির ধারাবাহিক অংশগ্রহণ দেশের যুব খেলোয়াড়দের জন্য আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ বাড়াবে এবং স্থানীয় লিগের প্রতিযোগিতামূলকতা বৃদ্ধি করবে। বাংলাদেশে এই সাফল্য স্থানীয় ক্লাবগুলোর জন্য উদাহরণস্বরূপ কাজ করবে, যাতে দেশীয় ফুটবলের উন্নয়নে নতুন দৃষ্টিকোণ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা গড়ে ওঠে।